লিটনের সঙ্গী কে ওপেনিংয়ে ?

একদিকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ধুমধাড়াক্কা প্রদর্শনী, আরেকদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট। এই দুইয়ের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া একটু কঠিন। কুড়ি ওভারের এই খেলায় বাংলাদেশ দল কখনোই ধারাবাহিকভাবে সাফল্য পায়নি। সেটা মূলত ব্যাটিং ব্যর্থতার কারনেই, আরও স্পষ্ট করে বললে টপ অর্ডার ব্যাটিংয়ের কারণে।

ব্যাটিং পাওয়ারপ্লের সুবিধা নেওয়া তো দূরের কথা, ইনিংসের শুরুতে বাংলাদেশ দলের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা টিকতেই পারছেন না! ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজ শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের আলোচনায়ও ঘুরেফিরে আসছে সেই টপ অর্ডার ব্যাটিং।

গত দুই বছরে এই ব্যাটিং ব্যর্থতা যেন প্রতিনিয়ত নতুন তলানি খুঁজে নিচ্ছে। শট খেলার ভয়ে মরতে মরতে বাংলাদেশ দল এখন টপ অর্ডার ব্যাটিংয়ে বেঞ্চের পেছনের ছাত্র। কতোটা পেছনে? ১২টি টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষ তিন ব্যাটসম্যানের গড়ের দিক থেকে সবার পেছনে। আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়েও বাংলাদেশ থেকে এগিয়ে। গত দুই বছরে বাংলাদেশ দলের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের গড় মাত্র ১৭.৩২, স্ট্রাইক রেট ১০০। বড় ক্যানভাসে এটাই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ের ছবি।

অথচ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটিং করার সেরা জায়গা টপ অর্ডার। শুরুতে পাওয়ারপ্লের সুবিধা কাজে লাগিয়ে দ্রুত রান তোলা, মাঝের ওভারে সেটিকে আরও দীর্ঘকায় রূপ দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত টিকে থাকলে ঝড় তোলা – বিশ ওভারের খেলায় এই তিন ধাপে ব্যাটিং করার সুযোগ মেলে শুধু টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদেরই। বাংলাদেশে কেউই সেই সুবিধাটা নিতে পারছেন না।

প্রায় দুই বছরের বেশি সময় ধরেই তামিম ইকবাল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বাইরে। তামিম না থাকায় আরেক বাঁহাতি ওপেনার মোহাম্মদ নাঈমকে তৈরি করার চেষ্টা করেছিল টিম ম্যানেজম্যান্ট। কিন্তু বাজে ফর্মের কারনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকে নাঈমকে বাদ দেওয়া হয়। সৌম্য সরকারের কাছ থেকেও ব্যাটিং উদ্বোধনে ধারাবাহিকতা পায়নি বাংলাদেশ। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের তিন ম্যাচের জন্য মুনিম শাহরিয়ার ও এনামুল হককে নিয়ে দল সাজানো হয়।

দুজনই ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করার ফল হিসেবে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন। নিয়মিত ওপেনার লিটন দাসের সঙ্গে মুনিম ও এনামুলের মধ্যে একজনের ইনিংস উদ্বোধন করার কথা।

তবে দুজনকেই যে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে, সেটি আলাদা করে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। মুনিম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন মাত্র দুটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরই জাতীয় দলের হয়ে তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে দ্রুতগতিতে রান তোলার চ্যালেঞ্জটা তিনি কীভাবে সামলাবেন, সেটিই দেখার বিষয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে এনামুলেরও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নতুন শুরু হয়েছে।

দেশের হয়ে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ২০১৫ সালে। দীর্ঘ বিরতির পর ফেরার পর এনামুল কেমন করেন, সেদিকেও থাকবে টিম ম্যানেজম্যান্টের আগ্রহ।

আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ দলের অন্তত ১৪টি ম্যাচ খেলার কথা। বাংলাদেশকে টপ অর্ডার সমস্যার সমাধান তাই এর মধ্যেই বের করতে হবে। বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্সও তাকিয়ে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ তিনটির দিকে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশকে মাত্র দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে দেখেছেন, গত মার্চে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। দুই দিন আগে এ ব্যাপারে সিডন্স বলছিলেন, ‘আমি আসার পর মাত্র দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দেখেছি। ব্যাটিং নিয়ে মন্তব্য করার জন্য এইটুকু যথেষ্ট না। আমাদের দলে কিছু ভালো ক্রিকেটার আছে। দেখি এই তিনটি ম্যাচে কী হয়।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য দেশ ছাড়ার আগে অবশ্য মুনিম ও এনামুলের সঙ্গে কাজ করেছেন সিডন্স। দুই ডানহাতির সঙ্গে লিটনের যুগলবন্দী কেমন হবে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *