ঈদের আগে বেতন-বোনাস নিয়ে শিক্ষকদের ক্ষোভ ও শঙ্কা

ঈদের আগে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ঈদুল আজহার বেতন-বোনাস নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। তারা বলছেন, জুলাই মাসের দুই তারিখ পার হলেও এখনো বোনাসের অর্থ ছাড় করেনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।

শিক্ষকরা জানান, প্রতি উৎসবেই শিক্ষকদের বেতন-বোনাস নিয়ে গড়িমসি করা হয়। গেল ঈদুল ফিতরের আগে মাউশি থেকে বোনাস ছাড় করা হলেও অধিকাংশ শিক্ষক সেই বোনাস তুলতে পারেননি। এমনকি গত ঈদের পর শিক্ষকরা বেতন পেয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক বলেন, বেসরকারি শিক্ষকদের সঙ্গে এমন প্রহসন দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। আমাদের মাত্র ২৫ ভাগ বোনাস দেয়া হয়। এই টাকা দিয়ে ঈদের জন্য কি বা কেনা যায় বলে প্রশ্ন রাখেন তিনি।

বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক সমিতির নেতা এনামুল হক এ বিষয়ে বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, শিক্ষকরা ঘরে-বাইরে সব জায়গায় নিগৃহীত হচ্ছেন। আজ প্রশাসনের সামনে যেমন তাদের গলায় জুতার মালা পড়ানো হচ্ছে, আবার শিক্ষার্থীর স্ট্যাম্পের আঘাতে প্রাণও হারাতে হচ্ছে। এরপরও নামমাত্র যে বেতন বোনাস দেয়া হয় তারও দিনক্ষণ ঠিক নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুনজর আশা করেন তিনি।

জানা যায়, এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে প্রিন্সিপাল থেকে সহকারী শিক্ষকদের ২৫ ভাগ বোনাস দেয় সরকার। অর্থাৎ কোনো সহকারী শিক্ষক যদি ১০ গ্রেডে চাকরিতে প্রবেশ করেন তার বেসিক হয় ১৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি ঈদে শিক্ষকদের দেয়া হয় চার হাজার টাকা। যদিও সরকারি চাকরিজীবীরা মূল বেতনের শতভাগ বোনাস পান।

এ বিষয়ে শিক্ষক নেতারা বলছেন, এত কম উৎসব ভাতার নজির পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে নেই। আমরা দীর্ঘ দিন এ বিষয়ে আন্দোলনও করছি তবে এর কোনো ফলাফল আসেনি।

জানা যায়, এবার শুধুমাত্র কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের শুধুমাত্র ঈদের বোনাস ছাড় করেছে। তবে মূল বেতন কবে ছাড় করা হবে তা স্পষ্ট করেনি।

বেতন-বোনাসের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (বিদ্যালয়) মো. বেলাল হোসাইন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, এ বিষয়ে আমি আসলে ভালো বলতে পারবো না। বিষয়টি মাউশির প্রশাসন শাখা দেখভাল করে।

মাউশির প্রশাসন শাখায় যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-বোনাসের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করি রোববার আমরা বেতন ও বোনাস একসঙ্গে ছাড় করতে পারবো। ঈদের আগে শিক্ষকরা এক সঙ্গে বেতন-বোনাস তুলতে পারবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *