নান্নুর কারণেই জাতীয় দলে ফিরতে পারেননি আশরাফুল

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জাতীয় দলের নির্বাচকদের নিয়ে দেশের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল বলেছিলেন, নির্বাচক প্যানেলের সদস্যদের মেয়াদ ৩-৪ বছর হলে ভালো হতো।

আশরাফুলের এমন মন্তব্য ভালোভাবে নেননি প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। তিনি আশরাফুলকে ‘দেশদ্রোহী’ ও ‘ফিক্সার’ বলে মন্তব্য করেন। নান্নুর এমন মন্তব্য শোনে মর্মাহত আশরাফুল।

নান্নু বলেন, অস্ট্রেলিয়ার একজন প্রধান নির্বাচক কত বছর কাজ করেছে সেটি বোধহয় আশরাফুলের ধারণা নেই। প্রায় ৯ থেকে ১২ বছর একনাগারে কাজ করেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া কি ক্রিকেট থেকে পিছিয়ে গেছে? যেসব খেলোয়াড় দেশদ্রোহী হয়ে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে নিষিদ্ধ হয়, ওদের কাছ থেকে ভালো পরামর্শ আশা করা কঠিন।

নান্নুর এমন মন্তব্যকে আপত্তিকর হিসেবে দেখছেন আশরাফুল। তিনি জানান, সেই সাক্ষাৎকারে তিনি কারও নাম উল্লেখ করেনি। তার ওই মন্তব্য নান্নুর উদ্দেশে না হলেও তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়েছেন।

আশরাফুল বলেন, আমি কোনো ব্যক্তির নাম বলিনি, আমি ওই দায়িত্বের কথা বলেছি। নান্নু ভাই যমুনার লাইভে এসে সরাসরি আক্রমণ করলেন আমার নাম ধরে। এটি আসলে খুবই দুঃখজনক। আমি যে কথাটি বলেছি, সেটি নান্নু ভাইকে নিয়ে বলিনি বা কারও নাম ধরে বলিনি।

আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমার মতামত দিয়েছি শুধু। আমি কিন্তু উনার নাম বলিনি যে নান্নু ভাইকে সরানো উচিত বা এমন কিছু। আমার মনে হয়েছে নির্বাচক পদ কোনো পেশা হতে পারে না যে,

আমি এখানে সারাজীবন থাকব, ১০-১২ বছর ধরে। এটি একটি সম্মানের জায়গা হবে, ৩-৪ বছর থাকবেন। কিন্তু উনি খুব সুন্দর করে অস্ট্রেলিয়ার একজনের উদাহরণ দিলেন।

তিনি বলেন, আপনার সাক্ষাৎকারেই বোঝা যাচ্ছে আপনার গুড বুকে আমি নেই বলেই এখন সুযোগ পাচ্ছি না। সেন্স ভাই আমাদের কম নেই। আল্লাহর রহমতে আমাদেরও মোটামুটি সেন্স আছে।

২০১৩ সালের ফিক্সিং কাণ্ড নিয়ে তিনি বলেন, আমি সাদাকে সাদা বলব, কালোকে কালো বলব। অন্যায় করেছি স্বীকার করি। আমার আত্মবিশ্বাস আছে বলে এখনও চেষ্টা করে যাচ্ছি।

নান্নু ভাই যেভাবে নাম ধরে দেশদ্রোহী, ম্যাচ ফিক্সার বললেন- এটি তো ২০১৩ সালে হয়েছে। আমি সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছি, শাস্তিও হয়েছে। যেভাবে আক্রমণ করলেন, কষ্ট লেগেছে। আমি তো উল্টাপাল্টা কিছু বলিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *