বড় শটের জন্য ফাহিমের কাছ থেকে বিশেষ অনুশীলন করছে সাকিব

চলমান ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপে ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনের হয়ে খেলেছেন সাকিব আল হাসান। উদ্দেশ্য বিপিএল ও সামনের আন্তর্জাতিক সিরিজ সামনে রেখে প্রস্তুত হওয়া।

তবে টুর্নামেন্টের মাঝপথেই আকস্মিক ঢাকায় ফেরেন সাকিব, পরদিন শৈশব কোচ নাজমুল আবেদিন ফাহিমকে নিয়ে নেমে পড়েন মিরপুরে অনুশীলনে।

জানা যায় বিপিএলের আগে বড় শটে টাইমিং ঠিক করা, পরিবর্তন আসা টেকনিক নিয়ে ছন্দ ধরে রাখা নিয়ে কাজ করেছেন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঝপথে ছিটকে যান চোটের কারণে। বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ও চট্টগ্রাম টেস্টেও খেলা হয়নি। ঢাকা টেস্ট খেললেও ব্যক্তিগত কারণে ছুটি নিয়ে যাননি নিউজিল্যান্ড সফরে।

ফলে চোট, বিশ্রাম মিলিয়ে লম্বা একটা বিরতিই পড়েছিলো। সেটি কাটাতেই বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ওয়ানডে ভার্সন খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

পরবর্তীতে অবশ্য টুর্নামেন্টের নাম বদলায় বিসিবি, সাকিব নাম লেখান ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনে। ৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মাঠে নামেন সাকিব।

খেলেছেন পরের ম্যাচেও, কিন্তু সুবিধা করতে পারছিলেন না। বরং দ্বিতীয় ম্যাচে তো মাঠে বেশ অস্বস্তিও বোধ করেন। সেদিনই ঢাকার বিমানে চড়ে বসেন, খেলেননি তৃতীয় ম্যাচে। এমনকি ইতোমধ্যে দল ফাইনালে উঠলেও সাকিবকে পাচ্ছে না ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোন।

ঢাকায় ফিরে সাকিব গতকাল (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে মিরপুরে হাজির হন নাজমুল আবেদিন ফাহিমকে নিয়ে। ফাহিম আবার বিপিএলে সাকিবের ফ্র্যাঞ্চাইজি ফরচুন বরিশালের মেন্টর হিসেবে কাজ করবেন।

এ দিন অনুশীলনে সাকিব বেশি চেষ্টা করেছেন বড় শট খেলতে। পরে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নাজমুল আবেদিন ফাহিমও জানান কি ধরণে কাজ হয়েছে গুরু-শিষ্যের, ‘কিছু ব্যাটিং ড্রিল করলো, ওর নিজের পর্যবেক্ষণ, আমার নিজের পর্যবেক্ষন যে ওর বিগ হিটিংয়ে কিছু সমস্যা হচ্ছে।

কাজ করার পর মাঠে সে মনে হচ্ছে বড় মাঠে টাইমিংটা একটু বেটার হচ্ছে, বল একটু দূরে যাচ্ছে।’‘যেকোনো কারণেই হোক টেকনিকে কিছু পরিবর্তন এসেছে। একবার যখন খেলতে না পারার ব্যাপারটা চলে আসে তখন নিজের উপর নিজেরই কনফিউশন চলে আসে যে আমি বিষয়টা পারি কি পারি না।

এ দ্বিধা দ্বন্দ্বে হয়তো আরও কিছু পরিবর্তন চলে আসে। তখন মৌলিক যে টেকনিকটা, যেটা সে খেলতে পারতো সেটা হয়তো এখন আর নেই।’

ফাহিমের মতে ব্যাটারের জন্য ক্লাসিক্যাল ড্রাইভ যেমন স্কিলের ব্যাপার তেমনি বড় শট যেমন ফিল্ডারের উপর দিয়ে ফাঁকা জায়গা বানিয়ে বাউন্ডারি আদায় করতেও স্কিলের প্রয়োজন।

বিপিএলের আগের সময়টায় সাকিবের সাথে এসব নিয়ে কাজ করেছেন উল্লেখ করে দেশের অন্যতম সেরা এই কোচ বলেন, ‘ড্রাইভ যেমন একটা স্কিল, ওভার দ্য টপ মারাটাও একটা স্কিল। সেটার জন্য চর্চা দরকার।

আজকে আমি যতটুকু দেখেছি আমি মনে করি ৫-৬ দিন যথেষ্ট সময়। আমার মনে হয় সে পারবে, সঠিক জিনিসট, সঠিক স্কিলটা বুঝে খেললে আরও বেটার হবে। খেলার মধ্যে ঢুকে গেলে এই কাজগুলোর সময় পাবেনা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *