নরমাল ডেলিভা’রি, চিকিৎসকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ ফি ৮ হাজার!

অসময়ে ভা’রতের প্রখ্যাত শিল্পী নচিকেতার ‘ও ডাক্তার’ গানের বাস্তবতা দেখা মিলেছে পেশাগত চরিত্রে কক্সবাজারের এক প্রসূতি চিকিৎকের। অথচ বৈশ্বিক করো’না পরিস্থিতিতে মানবিক এক পরিবেশ সর্বত্র। বলতে গেলে বাঘে মহিষে এক ঘাটে জল পানেও এখন আ’পত্তি নেই কারো। একদিকে করো’না-ওমিক্রনের কারণে মানুষ প্রা’ণভ’য়ে তটস্থ, অন্যদিকে আর্থিক সংকটে পড়ায় বেশিরভাগ মানুষই এখন দিশেহারা।

ভ’য়াল এই পরিস্থিতিতেও রীতিমতো অস্বাভাবিক ভিজিট ও মুঠোফোনে কয়েক মিনিট চিকিৎসা শরাম’র্শ দিয়ে ৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়েছে কক্সবাজারের বেসরকারী জেনারেল হাসপাতাল ও প্রসূতি চিকিৎসক তানজিনা শারমিনের বি’রুদ্ধে। রোগির সাথে চিকিৎসকের দেখা হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগির বিষয়ে মুঠোফোনে চিকিৎসকরে সাথে যোগাযোগ করেছেন। এজন্যই সেবাগ্রহীতার পরিবারকে গুনতে হয়েছে ৮ হাজার টাকা। এমন অ’ভিযোগ তুলে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন আব্দুল আলিম নামের ভুক্তভোগী এক যুবক।

সূত্র জানায়, ১৪ জানুয়ারি সকাল ৭ টায় কক্সবাজারের বেসরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান জেনারেল হাসপাতা’লে প্রসব বেদনা নিয়ে ভর্তি হন ইশরাত জাহান সুমি (২৯)। ওখানে কোন চিকিৎসকের সহযোগিতা ছাড়াই ভর্তির ২০ মিনিট পরে এক ফুটফুটে সন্তানের জন্ম দেন সুমি। ভর্তির পর হাসটাতা’লের পক্ষ থেকে পরাম’র্শ নিতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় একই হাসাপতা’লের প্রসূতি চিকিৎসক তানজিনা শারমিনের সঙ্গে। আর এই মুঠোফোন যোগাযোগের জন্য সেবা গ্রহীতার পরিবারকে গুনতে হয়েছে ৮ হাজার টাকা।

এবিষয়ে সেবা গ্রহীতার ভাই আবদুল আলিম বলেন, ১৪ জানুয়ারি মাত্র ৫ ঘন্টা আমা’র বোন ওই হাসপাতা’লে চিকিৎসাধীন ছিল। সেদিন সকাল সাড়ে এগোরটায় ছাড়পত্রের জন্য ক্যাশ কাউন্টারে বিল জমা দিতে গেলে ১৪ হাজার ১শ টাকা বিল দেখে হতভম্ব হয়ে যাই।

তিনি আরো বলেন, হাসপাতা’লের দেয়া বিল ভাউচার অনুযায়ী ভর্তি ফি ১ হাজার টাকা, ব্যাবস্থাপত্রের জন্য ৫শ, ডা. তানজিনা শারমিনের বিল ৮ হাজার ও হাসপাতাল বিল ৪ হাজার ৬শ টাকা ধ’রা হয়েছে।

আব্দুল আলিম বলেন, আমা’র বোনের সন্তান প্রসবের সময় ওই চিকিৎসক ঢাকায় ছিল। তার সাথে মুঠোফোনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করেছে বলে শুনেছি। এই মুঠোফোনের যোগাযোগের জন্যই আট হাজার টাকা গুনতে হয়েছে।

শুধু সুমির পরিবার একা নয়, আরো অনেককেই জেনারেল হাসপাতা’লে চিকিৎসা নিতে গিয়ে গুনতে হয়েছে ভুতুডে বিলের টাকা। বেশিরভাগ সেবাগ্রহীতার অ’ভিযোগ ওই প্রসূতি চিকিৎসক তানজিনা শারমিনের বি’রুদ্ধে। গত বছর ৩০ এপ্রিল ডেলিভা’রির রোগি জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক রোগীর কাছ থেকে ১৪ হাজার ৫শ টাকা নিয়েছে অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে রোগি জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, প্রসব বেদনা উঠলে জেনারেল হসপিটালে ভর্তির জন্য পরাম’র্শ দেন ডা. তানজিন শারমিন।পরে স্বাভাবিকভাবে বাচ্চার জন্ম হয়। কিন্তু বিল দিতে গিয়ে বাধে বিপত্তি। বিল হাতে নিয়ে দেখা যায় নরমাল ডেলিভা’রি করার পরেও ডা. তানজিন শারমিনার ফি ধ’রা হয় ১০ হাজার টাকা।

তিনি আরো বলেন, মাত্র ৮ ঘন্টায় হসপিটালের বিল ধ’রা হয় সাড়ে ৪ হাজার টাকা। বিলের বিষয়ে আ’পত্তি জানালে কোন ধরনের সহযোগিতা না করে পুরো বিল নিয়ে নেন কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে অ’ভিযু’ক্ত চিকিৎসক তানজিন শারমিন বলেন, আমা’র কাছে অনেক রোগীই আসে। এসব বিষয় আমা’র এখন স্ম’রণ নেই। তারা কোন অ’ভিযোগ আমা’র কাছে করেনও নি। একই প্রসঙ্গে তিনি হসপিটাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরাম’র্শও দেন তিনি।

অ’ভিযোগের বিষয়ে কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতা’লের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ডাক্তার সুনয়ন বুড়ুয়ার সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি অ’ভিযোগ শুনার পর ব্যাস্থতা দেখিয়ে ফোন কে’টে দেন।

আর ওই হাসপাতা’লের চেয়ারম্যান ডা. জি এম কাদেরী বলেন, ডাক্তারের সুপারিশে যারা আমাদের হাসপাতা’লে ভর্তি হয় তারা মূলত ওই চিকিৎসকের রোগি আমাদের নয়। সেক্ষেত্রে ডাক্তারের ফি নেওয়ার বিষয়ে আমাদের করার কিছু নাই।

তিনি আরো বলেন, আমি চেয়ারম্যান হিসেবে সবসময় সেখানে যাই না। মাঝেমধ্যে গিয়ে হিসাব দেখি। এক্ষেত্রে যদি ভোক্তভোগি পরিবার অ’ভিযোগ করেন তবে ক্ষতিপূরন দেয়া হবে।

চেয়ারম্যান আরো বলেন, আমি কক্সবাজারের সচেতন নাগরিক হিসেবে চাই সকল চিকিৎসকের ফি সিভিল সার্জন কিংবা উর্ধত্বন কর্তৃপক্ষ নির্ধারন করে দিক। সেক্ষেত্রে আর এমন ঘটনা ঘটবে না। কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমা’র জানা নেই। তবুও ত’দন্ত করে ব্যবস্থা নিব। এছাড়া ভোক্তভোগি পরিবার যদি একটি অ’ভিযোগ করে সেক্ষেত্রে আরো কঠিনতম ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *